দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সাত মাসের যুদ্ধ বন্ধে তেহরানকে তার পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ কমানোর আশ্বাস নয়, বরং ইরানকে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভ্যান্স বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সমাধানে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। জুনে তিনি একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন। তবে সেই চুক্তি দ্রুত ভেস্তে যায়। চলমান যুদ্ধ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
সোমবার আলাস্কায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রয়টার্সকে ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তাহলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেন প্রয়োজন—এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেখাতে হলে তেহরানকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতায় অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, শুধু কথার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় যাবে না। ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে দৃশ্যমান ও সুনির্দিষ্ট ছাড় দিতে হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আরও তীব্র হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতটা, তা স্পষ্ট নয়।
ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন, ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা তাদের ইরানি প্রতিপক্ষ এবং দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন। তার দাবি, সমস্যা ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নয়; বরং মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও অস্পষ্ট বার্তায়।
ভ্যান্স আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বোঝার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নাকচ করে বলেন, ইরানি বাহিনী মাঝে মাঝে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে পারলেও জলপথ দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করার সক্ষমতা তাদের নেই।
শান্তি আলোচনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে ভ্যান্স স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আলোচনায় সম্পৃক্ত এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে যুদ্ধের ব্যয়, যা প্রতি মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
আলাস্কায় নির্বাচনী সমাবেশে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের পক্ষে প্রচারণা চালান ভ্যান্স। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/